মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
“এআই যদি মানুষকে বাদ দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ভবিষ্যৎ কাদের জন্য?”
অনলাইন ডেস্ক
ভবিষ্যতের পৃথিবী কি কেবল রোবটদের জন্য? এমন এক ভয়ংকর বাস্তবতার শঙ্কা জানাচ্ছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম প্রবর্তক জিওফ্রে হিন্টন। যিনি এক সময় নিজেই এ প্রযুক্তির গঠন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, আজ তিনিই বলছেন—এআই যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে মানুষ কেবল দর্শক হয়ে থাকবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তা স্টিভেন বার্টলেটের পডকাস্ট ‘দ্য ডায়েরি অফ আ সিইও’তে হিন্টনের মুখ থেকে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগের কথা। ৭৭ বছর বয়সী এ বিজ্ঞানী স্পষ্ট করেই বলেন, আগামীতে টিকে থাকতে হলে মানুষকে এমন পেশার দিকে ঝুঁকতে হবে, যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে সহজে অনুকরণ করা সম্ভব নয়।
হিন্টন বলেন, ‘‘এআই চিন্তা করতে শিখছে ঠিকই, কিন্তু শারীরিক কাজের জগতে সে এখনও শিশু।’’ উদাহরণ হিসেবে তিনি প্লাম্বিং পেশার কথা বলেন। একটি বাস্তবমুখী কাজ, যেখানে হঠাৎ করে পানি চুঁইয়ে পড়া, কিংবা অচেনা কোনো যন্ত্রাংশ ঠিক করা—এসব কৌশল এখনো এআই এর নাগালের বাইরে। তাই একজন দক্ষ প্লাম্বার হওয়া ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ এবং বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তিনি।
কিন্তু সব পেশা কি এতটা সৌভাগ্যবান? হিন্টনের মতে, একেবারেই না। আইন সহকারী, নথি বিশ্লেষক বা তথ্যসংক্ষেপক—এইসব পেশায় এআই ইতোমধ্যেই দক্ষ হয়ে উঠেছে। যার ফলে এই সেক্টরগুলোতে মানুষের প্রয়োজন দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুতই এই পরিবর্তনের দিকেই ধাবিত হচ্ছে, এবং সেই পরিবর্তনে টিকে থাকা বেশির ভাগ মানুষের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে।
তবে হিন্টনের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা শুধুমাত্র চাকরি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলছেন, প্রযুক্তির মালিকানা যাদের হাতে, তাদের আয় ও সুযোগ ক্রমাগত বাড়ছে। আর যাঁরা সহকারী বা মাঝারি পর্যায়ের কর্মী, তারা ক্রমেই হারাচ্ছেন নিজেদের অবস্থান। প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি এতটাই দ্রুত যে, সাধারণ মানুষদের জন্য তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্যও বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে।
সবচেয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যতের রূপটি তুলে ধরতে গিয়ে হিন্টন বলেন, ‘‘এক সময় এমন প্রযুক্তি তৈরি হয়ে যাবে, যেখানে মানুষের প্রয়োজনই থাকবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র, হাসপাতাল, এমনকি সামরিক বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও রোবট নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।’’ আর যদি কখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে, তবে তারা এমন বিকল্প তৈরি করতে পারে যা মানুষকেই বাতিল করে দেবে।
একজন বিজ্ঞানীর মুখে যখন নিজের সৃষ্টির ভয়ের গল্প শোনা যায়, তখন সেটি কেবল সতর্কতা নয়, ভবিষ্যতের বাস্তব চিত্র। হিন্টনের বার্তা পরিষ্কার—এখনও সময় আছে, মানুষ হিসেবে আমাদের এমন কাজ শিখতে হবে, যেগুলোকে এআই সহজে ছুঁতে পারবে না। নইলে ভবিষ্যতের মঞ্চে হয়তো আর আমাদের জন্য কোনও জায়গা থাকবে না।